আজ ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

ভোলায় ধর্ষণের বিচার করবে বলে বিশ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন দুই দালাল

আকতারুল ইসলাম আকাশ,ভোলাঃ ভোলা সদর উপজেলার ৩নং পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে একটি ধর্ষণের বিচার করবে বলে বিশ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ঐ ওয়ার্ডের দুই দালালের বিরুদ্ধে।

ঐ দুই দালালের নাম মোঃ নাছির হাওলাদার ও মোঃ নাছির ফকির বলে জানা গেছে।

সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের জাফর খাঁ বাড়ির মোঃ জাফর খাঁয়ের মেয়ে লামিয়া (১৪) বেগমের সাথে রাজাপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মোঃ হানিফ হাওলাদারের ছেলে মোঃ শাকিলের (২২) দীর্ঘদিন যাবত প্রেম ভালোবাসা চলছিলো।

ফোনে দুইজনের কথোপকথনের এক পর্যায়ে মেয়ের সাথে মঙ্গলবার (২০ আগষ্ট) রাত প্রায় ২টার দিকে দেখা করতে আসেন প্রেমিক শাকিল ও তার এক বন্ধু।

মেয়ের নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ ফুট দূরে এক নির্জন বাগানে দেখা করেন দু’জনে। এসময় বাগানের পাশে থাকা নসু মাতব্বর নামে এক প্রতিবেশী রাতে ঘর থেকে বের হয়ে তাঁদের দু’জনকে দেখতে পান। পরে তিনি ঘর থেকে দা নিয়ে তাদের দু’জনকে হাতেনাতে ধরেন। এসময় নসু মাতব্বরকে ধাক্কা দিয়ে পেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন প্রেমিক শাকিল। নসু মাতব্বর ও শাকিলের ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে শাকিল ছুটে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করলে নসু মাতব্বর তাকে দা দিয়ে কোপ দেন। পরে প্রেমিক তার মোবাইল ও লুঙ্গি পেলে পালিয়ে যান।

সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে, স্থানীয় দুই দালাল নাছির হাওলাদার ও নাছির ফকির ঘটনাটি মিটমাট করে দিবে বলে ছেলে পক্ষ থেকে ২০,০০০ হাজার টাকা মেয়ের পরিবারকে দিবে বলে হাতিয়ে নেন।

এইদিকে মেয়ের পরিবার সঠিক বিচারের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে গিয়েও সঠিক বিচার না পেয়ে ভোলা সদর থানায় ধর্ষণ মামলা করেছেন বলে মেয়ের পরিবার থেকে জানানো হয়।

মেয়ের মা মোসাঃ মিনারা বেগম জানান, আমরা সঠিক বিচার না পেয়ে ভোলা সদর থানায় ধর্ষণ মামলা করেছি। তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ে প্রেমে রাজি ছিলোনা। ছেলে শাকিল জোরপূর্বক আমার মেয়ের কাছ থেকে ফোন নাম্বার নিয়ে রাতে তাকে ধর্ষণ করার জন্য ভালোভালো কথা বলে থাকে বাগানে নেয়। তিনি বলেন, শুনেছি টাকা ২০,০০০ হাজার ছেলে পক্ষ দিয়েছে আমাদেরকে দিতে। কিন্তু সেই টাকা আমাদেরকে না দিয়ে নাছির হাওলাদার ও নাছির ফকির নিয়ে গেছে।

তবে মেয়ে (প্রেমিকা) লামিয়া বেগম বলেন, শাকিল আমাকে বিয়ে করবে বলে এই পর্যন্ত তিনবার আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করেছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (২০ আগষ্ট) সে ফোন করে আমাকে ঘর থেকে বের হয়ে বাগানে আসতে বলে। তখন আমি বাগানে আসলে নসু মাতব্বর আমাদের দু’জনকে হাতেনাতে ধরে পেলেন।

নসু মাতব্বর জানান, এই বিষয়টা নিয়ে আমি আরো আগে থেকে জানি। তবে ঐদিন তাদের দুজনের আলাপ পেয়ে তাঁদের দু’জনকে আপত্তিকর অবস্থায় বাগান থেকে ধরেছি। পরে আমার কাছে থাকা ছেলের ফোন ও লুঙ্গি সকালবেলা এসে নিয়ে জান নাছির হাওলাদার ও নাছির ফকির।

তবে মেয়েকে ধর্ষণ নয়, মেয়ের নিজের ইচ্ছামত ই ছেলে তার কাছে গিয়েছে বলে অভিযোগ করেন ছেলের মা। তিনি জানান, এই বিষয়টা আমরা আগে জানতাম না। তবে মেয়ে নিজেই ফোনে কল করে শাকিলকে তাদের বাড়িতে নিতেন এবং মঙ্গলবারও মেয়ে নিজেই ফোন করে তাকে সেই বাগানে নেয়।

ছেলের বড় ভাই মোঃ শাহীন জানান, নাছির ফকির ও নাছির হাওলাদার এই বিষয়টা কেউ না জানতে মিটমাট করে দিবে বলে আমার কাছ থেকে ২০,০০০ হাজার টাকা নিয়েছে। ক্লোজার বাজারে আমি তাদেরকে ঐ টাকা দিয়েছি। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর তাদের দুজনের কোন খোঁজ খবর নেই।

এই বিষয়ে দুই দালাল নাছির ফকির ও নাছির হাওলাদার এই প্রতিনিধিকে দেখে পালিয়ে যান। মুঠোফোনে এই দুই দালালের সাথে কথা হলে তারা ঘুষ নেওয়ার বিশ হাজার টাকার কথা স্বীকার করে বলেন, ভাই টাকা তো নিয়েছি, তাতে কি হইছে? তবে আপনাকে এই কথা বললো কে? আমরা দল করি কিছু তো খাবো ই। এটা কোন বিষয় না।

তবে এই বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা হলে তারা জানান, শুনেছি মেয়ে পক্ষ মামলা করেছে। তারা আইনে আইনে বুঝুক। এতে আমাদের কিছুই বলার নেই।

চারদিনেও ধর্ষক শাকিল আটক হয়নি কেনো? এই বিষয়ে ইলিশা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শ্রী রতন দাস ও ভোলা সদর থানার ওসি মোঃ ছগির মিঞা জানান, ধর্ষক শাকিল পলাতক আছে। আমরা তাকে এখনো আটক করতে পারিনি। তবে আটকের চেষ্টা চলছে। অতি শ্রীগ্রই ধর্ষককে আটক করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
%d bloggers like this: