আজ ৩০শে কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ই নভেম্বর ২০১৯ ইং

ভোলায় তরুণীর শ্লীলতাহানির মূল্য ১০ হাজার টাকা

আক্তারুল ইসলাম আকাশ, ভোলা প্রতিনিধিঃ ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ০৯নং ওয়ার্ডে রাতের আঁধারে কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা ও গোপনে কিশোরীর গোসল করার ভিডিও ধারণ করেন স্থানীয় দুই বখাটে। এই নিয়ে কিশোরীর পরিবার গত (৩০ অক্টোবর) থানায় সাধারণ ডায়েরি ( জিডি) করেন। জিডির তদন্ত সাপেক্ষে পুলিশ মন্টু নামের ৪ নম্বর আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়।

কিন্তু আসামি মন্টুকে আটকের কিছু সময় পর ভিক্টিমকে ১০ হাজার টাকার প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে পুলিশের কাছে কিশোরীর থেকে জোরপূর্বক মিথ্যা বক্তব্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে আসামি মন্টুকে ছাড়িয়ে আনেন মন্টুর মামা মোঃ আলাউদ্দিন ও মন্টুর মামা শশুড় মোঃ আব্দুল রহিম পাটোয়ারী। আলাউদ্দিন ভোলা বাপ্তা স্টান্ডার্ডের সাব্বির টেডার্সের মালিক ও রহিম পাটোয়ারী ভোলা সাব-রেজিস্ট্রিরি অফিসের পাটোয়ারী বলে জানা যায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ কাশেম মাল জানান, মন্টুকে আটকের বিষয়ে আমাকে মোবাইল ফোনে খবর জানানো হয়। তখন আমি মন্টুর মামা আলাউদ্দিন ও রহিম পাটোয়ারী ওসি এনায়েত হোসেনের কাছে এসেছিলাম মন্টুকে আটকের বিষয়ে জানতে। তখন ভিক্টিম নিজে ওসির কাছে সবকিছুর স্বীক্তোরিক্ত দেন। ভিক্টিমের কথা শুনে ওসি আমাকে বলেন আপনাদের সিদ্ধান্ত কি? তখন ভিক্টিমকে আলাউদ্দিন ও রহিম পাটোয়ারী ওসির রুম থেকে বের করে বাহিরে এনে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০ টাকার টাকার প্রলোভন দেখান। তখন ভিক্টিম ভয়ে ওসির কাছে সবকিছু লুকিয়ে মিথ্যা কথা বলতে বাধ্য হয়। পুলিশ ভিক্টিমের কথা ফোনে রেকর্ড করে মন্টুকে ছেড়ে দেয়।

কাশেম মাল আরো জানান, মন্টুকে ছাড়িয়ে আনার পর আলাউদ্দিন ও রহিম পাটোয়ারী ভিক্টিমকে ১০ টাকা দিতে চেয়েছিলো। কিন্তু আলাউদ্দিন ও রহিম পাটোয়ারী ভিক্টিমকে টাকা না দিয়ে ভিক্টিমকে স্টাম্পে লিখিত দিয়ে জিডি থেকে মন্টুর নাম বাদ দিতে বাধ্য করে। ভিক্টিম স্টাম্পে লিখিত না দেওয়ায় আলাউদ্দিন ও রহিম পাটোয়ারী ক্ষমতা দেখিয়ে চলে যায়। এবং জিডির তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ গুলজার হাওলাদার জানান, এই নিয়ে শুক্রবার স্থানীয়ভাবে বিচার হবে।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত আলাউদ্দিন বিষয়টা এড়িয়ে যান। এবং মোবাইল ফোনে রহিম পাটোয়ারী খুব উত্তেজিত হয়ে বলেন, এই বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। ক্ষমতা থাকলে এমনই। এই কথা বলে তিনি মুঠোফোনের লাইন কেটে দেন।

তবে এই বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ এনায়েত হোসেন বলেন, ভিক্টিমের বক্তব্য মোবাইল ফোনে রেকর্ড করা আছে। মেম্বার কাশেম মাল আমাকে বলেছিলো মন্টুকে ছেড়ে দিতে। তারা স্থানীয়ভাবে এই বিষয়টা মিমাংসা করে দিবে। এখন যদি ভিক্টিম আবারও অভিযোগ করে। তাহলে আমরা পুনরায় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর


Your IP: 34.231.21.123

%d bloggers like this: