আজ ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ই নভেম্বর ২০১৯ ইং

পুলিশের সালিশি ভুমিকায় বড় ধরনের সংঘর্ষের হাত থেকে রক্ষা পেল নবীগঞ্জবাসী, বেরী বিল নিয়ে দু’পক্ষ বিরোধ নিস্পত্তি

এম,এ আহমদ আজাদ,নবীগঞ্জ থেকে //
নবীগঞ্জ থানা পুলিশের সালিশি ভুমিকার জন্য বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের হাত থেকে রক্ষা পেল নবীগঞ্জবাসী। উপজেলার সুজাপুর বেরী বিল নিয়ে দু’পক্ষ মূখোমুখি অবস্থানে উত্তেজনা চরম আকার ধারন করলে নবীগঞ্জ থানার নবাগত ওসি বিরোধীয় বিষয়টি নিস্পত্তির উদ্যোগ গ্রহন করেন। দুই পক্ষকে নোটিশ করে বাহুবল সার্কেল অফিসে সমঝোতা সভায় বসেন। সেই সভায় সুজাপুর বেরী বিল নিয়ে মায়ের দোয়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ এর অংশিদারিত্ব নিয়ে দুটি পক্ষের লোকজন কে বিরোধ নিস্পত্তির স্বার্থে একত্রিত করে লাভাংশ সমহারে বন্টনের সিন্ধান্ত গৃহিত হয়।
ঐ সমিতির লোকজনের দুটি পক্ষের লোকজনের মধ্যে বড় ধরনের সংঘষের্র আশংকা চলাকালে সমিতির সদস্যদের নিয়ে সার্কেল সহকারী সিনিয়র এএসপি পারভেজ আলম চৌধুরী, নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আজিজুর রহমান ও সেকেন্ড অফিসার সামসুল ইসলাম গতকাল( ৯ নভেম্বর) বিকালে বাহুবল সার্কেল অফিসে বসেন। সভায় উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য যে, গত মঙ্গলবার শান্তি শৃংখলা বজায় রাখতে উভয় পক্ষকে আদালতের নিদের্শে ১৪৪ ধারা নোটিশ জারি করেছিলো নবীগঞ্জ থানা পুলিশ।
জানাযায়, উপজেলার বাউসা ইউপির সুজাপুর বেরী বিল নামক জলমহালটি ১৪২৬-১৪৩১ বাংলা সনের জন্য উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় লীজ প্রাপ্ত হন মায়ের দোয়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ। গ্রামবাসী ২৯ জন সদস্য নিয়ে উক্ত সমিতি গঠন করেন ওই গ্রামের স্কুল শিক্ষক আব্দুল লতিফ। সমিতির সভাপতি আবু মিয়া ও সাধারন সম্পাদক আব্দুল জলিল এর নামে লীজ গ্রহন করা হয়। সমিতির লাভ ও অংশিদারিত্ব নিয়ে সমিতির সদস্যদের দ্ব›দ্ব দেখা দিলে এবং সমিতির লাভ্যাংশের ভাগ নিয়ে মায়ের দোয়া সমবায় সমিতির সদস্যরা দুইভাগে বিভক্ত হযে পড়েন।

উক্ত সমিতি ১৪২৬-১৪৩১ বাংলা সন পর্যন্ত লীজ প্রাপ্ত হয়ে সমিতির অন্যান্য সদস্যদের না জানিয়ে বার আনা শিয়ার শিক্ষক আব্দুল লতিফের নামে বিক্রি করা হয়। এতে বাধ সাধেন সমিতির অপর সদস্যরা । এক পর্যায়ে বি ত ৬ সদস্য আইন অনুযায়ী তাদের হিস্যায় প্রাপ্ত চার আনা শিয়ার দাবী করলে শিক্ষক আব্দুল লতিফ এবং সমিতির সভাপতি-সাধারন সম্পাদক দিতে অনিহা প্রকাশ করেন। ফলে বি ত ৬ সদস্য গ্রামবাসীর কাছে তাদের প্রাপ্ত শিয়ার হস্তান্তর করে বিল ফিসিংয়ে সহায়তা কামনা করেন। মৎস্যজীবি হিসেবে খ্যাত বেরী বিলের অধিকার থেকে বি ত সুজাপুর গ্রামবাসী এতে সায় দেন। ফলে উভয় পক্ষই বিল ফিসিংয়ের জন্য খলা ঘর তৈরী করে মাছ ধরার জালসহ সরঞ্জামাধি তৈরী করেন। এদিকে সমিতির সুবিধা বি ত ৬ সদস্যের পক্ষে কনা মিয়া বাদী হয়ে হবিগঞ্জের বিজ্ঞ আদালতে ১৪৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন। আদালত আইনশৃংখলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ওসি নবীগঞ্জকে নিদের্শ প্রদান করেন।

এনিয়ে গত ৫ দিন ধরে উক্ত বেরী বিল পাড়ে অবস্থিত সুজাপুর গ্রামে উত্তেজনা দেখা দেয়। চরম উৎকন্ঠার মধ্যে সময় পাড় করছিলেন গ্রামবাসী। গতকাল বিষয়টি আপোষ মিমাংসায় শেষ হওয়ার গ্রাম ও এলাকাবাসী হাফ ছেড়ে বেচেঁছেন। ঐ সভায় সিন্ধান্ত হয় আগামী বছর বেরী বিলের লাভ্যাংশ সমিতি ২৯ জন সদস্যের মধ্যে সমভাবে বন্টন করা হবে। তখন সবাই হাসিমুখে সেই সিন্ধান্ত মেনে কাগজে স্বাক্ষর করেন।

এব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আজিজুর রহমান বলেন, আমরা বিষয়টি আপোষ মিমাংসায় শেষ করার জন্য গত কয়েকদিন যাবৎ চেষ্টা করেছি। গতকাল বিকালে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনে সিন্ধান্ত হয় আগামী বছর বেরী বিলের লাভ্যাংশ সমিতি ২৯ জন সদস্যের মধ্যে সমভাবে বন্টন করা হবে। সেই সিন্ধান্ত গ্রামবাসী ও সমিতির সদস্য গ্রহন একটি কাগজে স্বাক্ষর করেছেন। ঊভয় পক্ষ তাদের মামলা তুলে নিয়ে শান্তিপূর্ন ভাবে মাছ চাষ করবেন।

বৈঠক সুত্রে জানাযায়, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু সিদ্দিকসহ এলাকার সালিশ বিচারক ও মুরব্বিয়ানবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ (সমিতির ২৯ জন) মিলে জলমহাল ফিসিং করে লভ্যাংশ সমান ভাগে ভাগ করে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পুলিশের হস্তক্ষেপে বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ায় এলাকার পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। স্থানীয় লোকজনের সাথে আলাপ হলে তারা জানান, বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনার আশংখ্যায় ছিলেন তারা। পুলিশের উদ্যোগে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় এলাকার পরিবেশ এখন শান্ত। পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর


Your IP: 18.204.48.199

%d bloggers like this: