আজ ৪ঠা অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ই নভেম্বর ২০১৯ ইং

বরিশালে জলাবদ্ধতায় ৫০ বছরের রেকর্ড ভেঙ্গেছে

খোকন হাওলাদারঃ ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র প্রভাবে বরিশালে রোববার (১০ নভেম্বর) সকাল থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বর্ষণ হয়েছে। এতে বৃষ্টিপাতের কয়েক বছরের রেকর্ড ভেঙ্গেছে। ‍এর ফলে জলাবদ্ধতায় বিগত ৫০ বছরের রেকর্ড ভেঙ্গেছে। শহরের প্রতিটি অলিগলি ‍এমনকি হাসপাতাল ভবনের ভেতরেও হাটু সমান জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী, সকালে ঝড়ো হাওয়া সঙ্গে ভারী বর্ষণ হয়েছে দুপুর দুইটা পর্যন্ত। পাশাপাশি দুপুরের পর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। সকালে সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ ছিল প্রতি ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া সহকারী মো. আবু জাফর বিএসএল নিউজকে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ২২২ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরমধ্যে রেকর্ড সংখ্যক বৃষ্টি হয়েছে গত ৫ ঘণ্টায়। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ১৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে দুপুর ‍আড়াইটার পরে কমে গেলেও অতি প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে চলাফেরা করতে দেখা যায়নি।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র প্রভাবে বরিশালের নদ-নদীর পানি বেড়েছে। কীর্তনখোলা, কালাবাদর, আড়িয়াল খাঁ, সুগন্ধ্যা, সন্ধ্যা, মেঘনা, পায়রাসহ নদ-নদী উত্তাল রয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ শুক্রবার (৮ নভেম্বর) বিকেল থেকে বরিশাল-পটুয়াখালী-ভোলাসহ বিভাগের ছয় জেলার অভ্যন্তরীণ রুটসহ সব রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে সড়কেও যানবাহনের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। আর গণপরিবহনগুলোতেও যাত্রীদের উপস্থিতিও খুব কম। তবে দুর্যোগ মোকাবিলায় ও উদ্ধার কাজে সহায়তা দিতে কাজ করছে জেলা-উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি এবং স্বেচ্ছাসেবকরা।

এদিকে, ভারী বর্ষণের কারণে এবং নদীর পানি বাড়ায় বরিশাল নগরীর নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নগরীর প্রাণ কেন্দ্র সদর রোডসহ বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া বৃষ্টির মধ্যেই বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করতে দেখা গেছে।

নগরীর প্রবীন বাসিন্দারা জানিয়েছে, ‘ইতিপূর্বে অনেক ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। তবে বুলবুলের প্রভাবে যে ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে তা বিগত ৫০ বছরের রেকর্ড ভাঙেছে। কেননা বৃষ্টির কারণে শহরের ‍এমন কোন অলিগলি নেই যেখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়নি। শহরের প্রাণ কেন্দ্র সদর রোড, বগুরা রোড, ফকিরবাড়ি রোড, রাজাবাহাদুর সড়ক, মেডিকেল কলেজ লেন, ‍আগরপুর রোডসহ সকল সড়কে‍ই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

এর কারন খুঁজতে গিয়ে বরিশাল পানি ‍উন্নয়ণ বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, নগরী ঘেষা পানি ‍উন্নয়ন বোর্ডের পানি বীপদ সীমার ‍উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যাার কারনে স্থলভাগে জমে থাকা বৃষ্টির পানি নদীতে নামতে পারছে না। পানি নামতে ‍আরও কিছুটা সময় লাগবে।

অবশ্য জলাবদ্ধতা দূর করতে ‍আগেভাগেই নেমে পড়েছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। নগরীর প্রতিটি ড্রেনেজ ব্যবস্থার ‍উন্নয়নে তারা কাজ করছে। ড্রেনে পানি চলাচল যাতে বাধাগ্রস্থ না হয় সে জন্য প্রতিটি ড্রেন পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর


Your IP: 18.204.48.199

%d bloggers like this: