আজ ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

চকরিয়ায় আকস্মিক নির্বাচনী উত্তাপ নৌকা প্রার্থী কৌশলে, বিদ্রোহী প্রার্থী সরবে

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ আগামী ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। এ নির্বাচনে এখনো মনোনয়নপত্র ক্রয় ও জমা দেওয়ার মত কোন প্রক্রিয়া হয়নি। এছাড়া ঐক্যফ্রন্টের কারও নেই কোন তৎপরতা। তবু আকস্মিক নির্বাচনী উত্তাপ দেখা দিয়েছে পুরো উপজেলায়। মনোনয়ন বঞ্চিত উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী বুধবার নির্বাচনী শোডাইন করায় এ উত্তাপ ছড়ায় পুরো উপজেলায়। যদিও ওই শোডাইন ছিল সম্পূর্ণ আচরণ বিধি লঙ্গন। অন্যদিকে সাঈদীর শোডাউনের কারণে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আলাহাজ্ব গিয়াসউদ্দিন চৌধুরীও বাড়িয়ে দিয়েছেন তার নির্বাচনী তৎপরতা। গত বুধবার তৃণমুল নেতাদের নিয়ে এক বিশাল মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন তিনি। প্রায়-প্রতিদিন তিনি একাধিক সভা ও মাহফিলে যোগ দিয়ে জানান দিচ্ছেন তিনিই শেখ হাসিনার নৌকার প্রার্থী।

জানাগেছে, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র ডজনাধিক নেতা দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তারা সবাই মাঠ-ঘাট চষে বেড়িয়েছেন মনোনয়নের প্রত্যাশায়। কিন্তু উপজেলা আওয়ামীলীগের এক বৈঠকে তিন সিনিয়র নেতার নাম পাঠানো হয় কেন্দ্রে। এরা হলেন- উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী, সহসভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী ও পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু। কিন্তু ১০ ফেব্রæয়ারি রবিবার কেন্দ্র থেকে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন চৌধুরীকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ঘোষনা করা হলে তোলপাড়া শুরু হয় পুরো উপজেলায়। পরের দিন ১১ ফেব্রæয়ারি সোমবার তিনি (গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী) ঢাকা থেকে চকরিয়ায় আগমন করলে হারবাং ইনানী, চকরিয়া পৌরশহরের কাজি মার্কেট চত্ত¡র, ফাসিয়াখালী, ডুলাহাজারা ও খুটাখালীতে সংবর্ধনার পরিবর্তে আয়োজন করা হয় শোকরানা সভা।

১২ ফেব্রæয়ারি ব্যক্তি ইমেজে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা দেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত ফজলুল করিম সাঈদী। ফলে নির্বাচনী উষ্ণতা ছড়ায় মাঠে। মাঠে-ঘাটে তার সমর্থিত লোকেরা লাগিয়ে দেয় কলাগাছ। ১৩ ফেব্রæয়ারি বুধবার বিকেলে সাঈদীর লোকজন পরিকল্পিতভাবে চকরিয়া পৌরশহরে আয়োজন করে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের। তিনি ওই জনতার উদ্দেশ্যে তার উষ্ণ বক্তব্যে নির্বাচন চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়-ব্যক্ত করেন। সড়কে যানজট সৃষ্টি করে এ ভাবে সংবর্ধনা নেওয়ার বিষয়টি নির্বাচন আচরণ বিধি লঙ্গন হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি কোন আইনী ব্যবস্থা । অন্যদিকে নৌকার প্রতীক পাওয়া আলহাজ্ব গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী নিজেকে শেখ হাসিনার প্রার্থী হিসেবে জানিয়ে দিতে বুধবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে কেন্দ্রের চিঠি তুলে দেন সাংবাদিকদের হাতে। তিনি বলেন-‘ আমি কে কি করছেন, কি বলছেন এমন কারও বিরুদ্ধে কথা বলারমত নয়, বরং জননেত্রি শেখ হাসিনার নির্দেশের পক্ষে’। এসময় তিনি সবার সহযোগিতা কামনা শেষ করেন সংবাদ সম্মেলন।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক মিজাবউল হক জানান, জননেত্রি শেখ হাসিনা যার হাতে নৌকা তুলে দিয়েছেন, নেতাকর্মীরা তার পক্ষে ভোট করবেন এতে কোন সন্দেহ নেই। তিনি আরও বলেন, এ জন্য পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ড, উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করা হবে। প্রত্যেককে জননেত্রি শেখ হাসিনার বার্তা পৌছে দেওয়া হবে।

অপর দিকে উপকূলীয় ইউনিয়ন বদরখালীর বাসিন্দা আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বঞ্চিত নুরে হাবিব তসলিমও নিজের ব্যক্তি ইমেজকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচন চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বৃহত্তর চকরিয়া উপজেলা সাংগঠনিকভাবে দু‘ভাবে বিভক্ত। চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ ও মাতামুুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামীলীগ। মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নের সিংহভাগ ভোটই পাবেন এমন বিশ্বাস নিয়েই তিনি নামছেন নির্বাচনী মাঠে। এভাবে বিদ্রোহী প্রার্থীরা চলছেন সরবে আর নৌকা প্রার্থী আলহাজ্ব গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী এগিয়ে যাচ্ছেন কৌশলে। তার কৌশলের হাতে ধরা পড়তে পারেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা এমন ধারণা ভোটারদের।

ভোটাররা বলছেন, দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ঐক্যফ্রন্টের কেউ নির্বাচনী মাঠে না আসলেও নির্বাচনী উত্তাপ ছড়াচ্ছেন আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। নিজেদের ছড়ানো উত্তাপে মধ্যে তৃতীয় পক্ষের সুযোগ নেবেন সাধারণ ভোটাররা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর
%d bloggers like this: